প্রতি আউন্সে ৩৩ ডলার কমল, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—পরবর্তী এক মাস নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দর ওঠানামা করবে
নিউইয়র্ক, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রতি আউন্স সোনার দর ৩৩ ডলার হ্রাস পেয়েছে বলে গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহ সোনার দর একটি নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে থাকবে। হঠাৎ করে বড় ধরনের পতন বা উত্থান—দুটোর কোনোটাই ঘটার সম্ভাবনা কম।
দীর্ঘ সময়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা শেষে হ্রাস
চলতি বছর দীর্ঘ সময় ধরে সোনার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসে সেই ঊর্ধ্বগতি থামতে শুরু করেছে এবং দর কিছুটা নিচে নামছে।
তবে এই পতন সত্ত্বেও সোনার মূল্য এখনো যথেষ্ট উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববার রাত ১১টায় সোনার মূল্য ছিল প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০ ডলার ৪৩ সেন্ট।
আগামী মাসের পূর্বাভাস
একাধিক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিকট ভবিষ্যতে সোনার বাজার একটি সংকীর্ণ সীমানার মধ্যে চলাচল করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
- পরবর্তী ৩০ দিনে সোনার দর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে
- বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা নেই
- একইভাবে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনাও কম
- নির্দিষ্ট মূল্যসীমার মধ্যে ওঠানামা চলতে থাকবে
দাম কমার কারণ
আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে এই মূল্য হ্রাসের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
মার্কিন ডলারের শক্তি: ডলারের মূল্য শক্তিশালী হলে সোনার দাম সাধারণত কমে যায়, কারণ ডলারে সোনা ক্রয় করা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
সুদের হার: কেন্দ্রীয় বৈঙ্কের সুদের হার নীতি সোনার দামে প্রভাব ফেলে। সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সোনার আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা কমে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা: শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ করেন।
চলতি বছরের সোনার বাজার
২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় সোনার দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। মুদ্রাস্ফীতির চাপ, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং বাজারে আস্থা ফেরায় সোনার চাহিদা সামান্য কমেছে।
বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের স্থানীয় সোনার বাজারেও প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে আমদানি শুল্ক, মুদ্রা বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদার কারণে বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণে কিছুটা ভিন্নতা থাকে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তা দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হতে কিছুটা সময় লাগে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
আর্থিক বিশ্লেষকরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন:
- দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনা এখনো ভালো বিকল্প
- স্বল্পমেয়াদী লাভের আশায় সোনায় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে
- বাজার পর্যবেক্ষণ করে সঠিক সময়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত
- পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ গুরুত্বপূর্ণ
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে সোনার বাজার নির্ভর করবে:
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি: সুদের হার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত সোনার দামে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি সোনার চাহিদা নির্ধারণ করবে।
ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলি: আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বা সংকট সোনার দাম বাড়াতে পারে।
মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা: মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে সোনায় বিনিয়োগ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
উপসংহার
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সাম্প্রতিক সময়ে কমলেও এটি এখনো উচ্চ মূল্যসীমায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী এক মাস দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে এবং নির্দিষ্ট পরিসরে ওঠানামা করবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনার সময়। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে সোনা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদক: অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫

