কক্সবাজারের মহেশখালীর প্রথম নারী ক্রিকেটার লিলি চেন; স্বপ্ন বাংলাদেশের হয়ে খেলা

কক্সবাজারের মহেশখালীর প্রথম নারী ক্রিকেটার লিলি চেন; স্বপ্ন বাংলাদেশের হয়ে খেলা

মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: সুমন চন্দ্র দে

মহেশখালীর অদম্য ক্রিকেটার, মাত্র ১৪ বছর বয়সে মহেশখালীকে জাতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে পরিচিত করতে শুরু করেছেন ছোট মহেশখালীর আদিনাথ ছোট রাখাইন পাড়ার কিশোরী লিলি চেন। সাত বছর বয়স থেকেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে বেড়ে ওঠা লিলির ক্রিকেটে অদম্য আগ্রহ ও পরিশ্রম তাকে নিয়ে গেছে দেশের শীর্ষ ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিকেএসপি’তে।

২০১৯ সালে আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে বর্তমানে তিনি কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত। লিলি চেন এর জন্ম: ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯।

লিলির বাবা ম্যাং চেন পেশায় দর্জি এবং মা আচ ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও মেয়ের ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেমে না যাক— এ জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বিকেএসপি থেকে প্রথমবার ডাক এলে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণের খরচ জোগাতে লিলির মা নিজের স্বর্ণের দুল বিক্রি করেন। সেই সুযোগটিতে লিলি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়।

তিন মাসের প্রশিক্ষণ নতুন সুযোগ:-
আবারও ডেকেছে বিকেএসপিতে। আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। এই ক্যাম্পে অংশ নিতে লিলিকে ঢাকায় অবস্থান করতে হবে। সুযোগটি বড় হলেও পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা এখন আর্থিক সংকট।

সহায়তার অপেক্ষায় লিলির পরিবার জানিয়েছেন, যাতায়াত, থাকা–খাওয়া ও অন্যান্য খরচের জন্য তারা উপজেলা প্রশাসন, ক্রীড়া সংস্থা এবং সমাজের সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা আশা করছেন।
যথাযথ সহায়তা পেলে লিলি শুধু মহেশখালী নয়, পুরো কক্সবাজার জেলার পরিচয় বহন করে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবেন।

লিলির স্বপ্ন ক্রিকেটকে ভালোবাসা। লিলি জানায়—
আমি বড় হয়ে দ্বীপ অঞ্চলের মেয়েদের ক্রিকেট শেখাতে চাই। মহেশখালীর দ্বীপ উপজেলা থেকে আরও অনেক নারী ক্রিকেটার বের হবে— এটাই আমার স্বপ্ন।

দ্বীপাঞ্চলের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে লিলি চেন এখন অনেকের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক। সামান্য সহযোগিতায় সম্ভাবনাময় এই কিশোরীর পথ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *